OrdinaryITPostAd

পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য

পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য নিচে তুলে ধরা হবে। নিম্ন বর্ণিত পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য, মনোযোগের সহিত পড়লে, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন। কেননা নিম্ন বর্ণিত, পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্যে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের যাবতীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তো আসুন দেখে নেয়া যাক, পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য। 

পেজ সূচিপত্র: পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য

উপস্থাপনা

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার যেহেতু বাংলাদেশের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন তাই পাহাড়পুর সম্পর্কে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হয়। বিশেষ করে, "পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য লিখ" এই ধরনের প্রশ্ন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় করা হয়। পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য সহ পাহাড়পুর সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এই আর্টিকেলটিতে তুলে ধরা হবে। তাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগের সাথে পড়ুন। 

পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য

বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন করা হয় যে, পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য লিখ। আপনি যদি নিম্ন বর্ণিত পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য আত্মস্থ  করে রাখেন সে ক্ষেত্রে, যেকোনো ধরনের পরীক্ষায়খুব সহজেই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবেন। তো আসুন দেখে নেয়া যাক, পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য। 
  • পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মূল নাম হলো সোমপুর বিহার। 
  • পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার নওগাঁ জেলায় অবস্থিত।
  • ১৮৭৯ সালে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কৃত হয়।
  • পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ইউনেস্কো ঘোষিত  বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
  • ১৯৭৯ সালে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার প্রথম খনন করা হয়।
  • পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের পূর্ব নাম গোপাল চিতার পাহাড়।
  • দশম শতাব্দীতে পাহাড়পুর বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
  • পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ৩০০ বছর ধরে জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র ছিল।
  • ১৯৮১-৮৩ সালে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পুনঃখনন করা হয়।
  • পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে পোড়ামাটির তামা ও রুপার ফলক পাওয়া যায়।

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এর ইতিহাস

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মূল নাম হলো  সোমপুর বিহার। ঐতিহাসিক গ্রন্থ সমূহে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার নামের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না ঐতিহাসিক গ্রন্থ সমূহে সোমপুর বিহার নামটি পাওয়া যায়।  যদিও সোমপুর বিহার বর্তমানে পাহাড়পুর বিহার নামে অধিক পরিচিত। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থানসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি স্থান হল পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার। 

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার শুধুমাত্র বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান নয়, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান সমূহের অন্যতম একটি। বৈশ্বিক এই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত। ১৮৭৯ সালে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কৃত হয়। 

স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার আবিষ্কার করেন। ব্রিটিশ শাসন আমলে জরিপ করার জন্য অত্র এলাকায় পৌঁছলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি আবিষ্কার করেন। স্থাপনাটি আবিষ্কার করার পরে, সেখানে খনন কাজ শুরু করেন।কিন্তু স্থানীয় জমিদার বা রাজার বাধার কারণে তা খনন বন্ধ করতে হয়। 
তবে পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের শাসন আমলেই, তা ব্যাপকভাবে খনন করা হয় এবং পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের নিদর্শনগুলোকে অবমুক্ত করা হয়। এবং ১৯১৯ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক আইনের অধীনে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারকে পুরাকৃতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এবং অত্র অঞ্চলটি সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। 

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিকভাবে ঐতিহাসিক স্থানের স্বীকৃতি লাভ করে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি প্রদান করে। এই স্বীকৃতের ফলে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার আন্তর্জাতিক গবেষণার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। 

অনেক বৈদেশিক প্রত্নতত্ত্ববিদ পাহাড়পুর সম্পর্কে গবেষণা করার জন্য, পাহাড়পুর ভ্রমনে আসেন।চাইলে আপনিও পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ভ্রমণ করতে পারেন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ভ্রমণ করতে চাইলে আপনাকে নওগাঁ জেলায় আসতে হবে এবং সেখান থেকে, খুব সহজেই আপনি পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ভ্রমণ করতে পারবেন। 

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের পূর্ব নাম গোপাল চিতার পাহাড়। নির্মাণের পর থেকে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার  ৩০০ বছর পর্যন্ত শিক্ষা দীক্ষার প্রাণকেন্দ্র ছিল। তবে পরবর্তীতে, বৌদ্ধদের প্রভাব কমে যাওয়ার ফলে এবং হিন্দুদের প্রভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে বৌদ্ধ বিহারের উপযোগিতা কমে যায়। এবং সেখানে লোকসভা গন্ধ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এবং একপর্যায়ে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। 
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কারের পূর্বে, বিহারের মূল মন্দিরের গম্বুজটি, উপরের দিকে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেটিকে দেখে পাহাড়ের মত মনে হতো। আর এ কারণেই স্থানীয় লোকজন সেই স্থানটিকে বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের সেই চূড়াটিকে, গোপাল চিতার পাহাড় নামে অভিহিত করত। 

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানদশম শতাব্দীর দিকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের আচার্য ছিলেন। অতীশ দীপঙ্কর সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের বই পাওয়া যায় যেখানে অতীশ দীপঙ্করের বিভিন্ন বক্তব্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে অতীশ দীপঙ্কর নামে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন যে অতীশ দীপঙ্কর কতটা লিজেন্ড এবং জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। 

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের পর থেকে তা বহুবছর মানুষের পদচারনায় মুখরিত ছিল। শুধু বাংলাদেশ নয় ভারত মায়ানমার মালয়েশিয়া চীন এবং মায়ানমার থেকেও প্রচুর পরিমাণে তীর্থযাত্রী পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে জ্ঞান অর্জনের জন্য ছুটে আসতো। 

এক কথায় পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার তৎকালীন সময়ে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মত ছিল যেখানে দূরদূরান্ত থেকে তীর্থ যাত্রীরা এসে জ্ঞান অর্জন করতো। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন জাদুঘরে বিভিন্ন ধরনের মূর্তি সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে অবস্থিত জাদুঘরে যে সকল মূর্তি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো
  • কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণুর খন্ডাংশ
  • হরগৌরীর ক্ষতিগ্রস্থ মূর্তি
  • বেলে পাথরের চামুন্ডা মূর্তি
  • লাল পাথরের দন্ডায়মান শীতলা মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথরের লক্ষ্ণী নারায়নের ভগ্ন মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথরের উমা মূর্তি
  • বেলে পাথরের গৌরী মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথরের দন্ডায়মান গণেশ
  • বেলে পাথরের কীর্তি মূর্তি
  • দুবলহাটির মহারাণীর তৈলচিত্র
  • বেলে পাথরের বিষ্ণু মূর্তি
  • নন্দী মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণু মূর্তি
  • সূর্য মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথরের শিবলিঙ্গ
  • বেলে পাথরের মনসা মূর্তি
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে বিভিন্ন ধরনের নিদর্শন পাওয়া যায়। যে সকল নিদর্শন পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম হলো পোড়ামাটির ফলক তামা রুপার ফলক ইত্যাদি। আপনি যদি কখনো পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই দেখেছেন যে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের দেয়াল রয়েছে সেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পরামাটির ফলক রয়েছে। 
শুধু তাই নয় বিভিন্ন কক্ষে, অনেক ধরনের মূর্তি রয়েছে। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কক্ষগুলোতে ব্রঞ্জের মূর্তি ও পাওয়া গিয়েছে। সুতরাং বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন ম্যাটেরিয়ালের প্রত্নতত্ত্ব রয়েছে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে। আর এ কারণেই পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বিশ্বের অন্যতম একটি ঐতিহ্যপূর্ণ স্থান। 

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে যে সকল কারণে পরিচিতি পেয়েছে তার অন্যতম একটি হলো পাহাড় বৌদ্ধবিহার। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য। পূর্বেই বলা হয়েছে যে, ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। শুধু তাই নয়, ইউনেস্কোর মতে, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার দক্ষিণ হিমালয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। 

যেহেতু পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক স্থাপনা তাই অবশ্যই এই স্থাপনাটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে তার উপর বৌদ্ধবিহার সংরক্ষণের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা।  

উপসংহার

ইতোমধ্যেই উপরে পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য তুলে ধরা হয়েছে। তাই আপনি যদি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগের সাথে পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই, পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য জানতে পেরেছেন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যবহুল এই আর্টিকেলটি আশা করি আপনার ভালো লেগেছে। যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে সকলের সাথে শেয়ার করবেন। ১৬৪১৩

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪